ছবিঃ সংগৃহীত
বরিশাল প্রতিনিধি: দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। অথচ বিপুলসংখ্যক রোগী পরিবহনের জন্য হাসপাতালটিতে ট্রলি রয়েছে মাত্র ১৩টি। এর মধ্যে প্রতিদিন সচল থাকে গড়ে ৯ থেকে ১০টি। ফলে জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কোনো ট্রলি নষ্ট হলে মেরামতের জন্য সেটি সরিয়ে রাখতে হয়। এতে রোগী পরিবহনের সক্ষমতা আরও কমে যায়। জরুরি বিভাগে একসঙ্গে একাধিক রোগী এলে ট্রলির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোথাও কোথাও স্বজনদের নিজেরাই ট্রলি ঠেলতে হচ্ছে। আবার ট্রলি না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কোলে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটির বর্তমান শয্যাসংখ্যা এক হাজার। সময়ের সঙ্গে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও রোগীর চাপ বেড়েছে আরও বেশি। প্রতিদিন আন্তবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। একই সময়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন আরও প্রায় আড়াই হাজার মানুষ।
এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন করে দেড় থেকে দুইশ রোগী ভর্তি হন এবং প্রায় সমসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন। রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেওয়া, ওয়ার্ড পরিবর্তন কিংবা জরুরি বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থানান্তরের জন্য ট্রলির প্রয়োজন হয়। সীমিতসংখ্যক ট্রলি দিয়ে এত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
ট্রলি পেতে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরাও। বরগুনার পাথরঘাটা থেকে স্বামীকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসা ফাতেমা বেগম জানান, জরুরি বিভাগের ফটকে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাঁরা ট্রলি পেয়েছেন।
ট্রলির পাশাপাশি রয়েছে ট্রলিম্যানের সংকটও। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিন শিফটে ট্রলিম্যানের অনুমোদিত পদ ২১টি। তবে দুজনকে আন্তবিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে জরুরি বিভাগে কার্যত কাজ করেন ১৯ জন। প্রতি শিফটে ছয়জন করে দায়িত্ব পালন করায় রোগীর চাপের তুলনায় জনবলও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
এই ঘাটতি সামাল দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগের অফিস সহায়ক ও আউটসোর্সিং কর্মীদেরও রোগী পরিবহনের কাজে যুক্ত করতে হয়। এতে তাঁদের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। ট্রলি ও ট্রলিম্যানের সংকটের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।